Monday, August 14, 2017

চেনা মুখ

সময়ের ফেউ ঘু ঘু ডাকা গলির নির্জনে হাঁক পাড়ে
বেছে নাও তোমার বিষাদ দেখ কত সব রং
একমুঠো যন্ত্রণার দামে

জাতহীন মাতালের শ্লথ হাতে
অসহ্য নেশার ঘোর কপর্দক শেষ
কাচের গেলাস নয় সাপের ছোবল
জলের আয়নায় ঝুঁকে চেয়ে থাকা ছেঁড়া শাড়ি রুক্ষ চুলে জটা
তারপর ডুব গুব বুদ বুদ গুলো ভেঙে গেলে
জল আবার পিশাচ নির্জন
অবেলার ম্লান পাখি-মুখ
পাকুড়ের ডালে ডানা ঝাপড়ায়
আসন্নসম্ভবা ছিল পেটে ছিল উপোষী সন্তান

যাও যাও ফেরিওয়ালা
বুকের মধ্যে যত নামি
রং হীন জ্বালার পাহাড়

আবার আসিব ফিরে
এ রকম কোন কথা না দিয়েই অনায়াস
স্বপ্নগুলো অর্থহীন
বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের মত যাকেই সামনে পায়
দু পায়ে জড়িয়ে ধরে

ভুলে যাওয়া ভাল
স্বপন আয়নার বুকে আধখানা উন্মাদ হ্যামলেট আর ওথেলো 'র ছায়া
বাকি আধখানা সেই বিকলাঙ্গ চেনা মুখ

Saturday, August 12, 2017

মুহূর্তের ব্যাতিরেকে - একটি কবিতা

ভালুমারের জঙ্গলের হাট
দিনশেষের হাটে - ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
বাঁশের চ্যাঙ্গারি আর শালপাতার দোনা ঘেঁটে 
খাবার খুঁজতে থাকা বুড়িটার চোখ গেল
সূর্যাস্তের দিকে হেঁটে যাওয়া উলঙ্গ পাগলটার দিকে।

আজানুলম্বিত বাহু, মনুজেন্দ্র ভঙ্গি তার হাঁটার ছন্দেতে,
শীর্ণকান্তি কাঁধের ওপরে একমাথা জটাধারী নোংরা রুক্ষ চুল।
দীনতার শীর্ণতার জীর্ণতার যদি কোন রূপ থাকে
এ ছবিতে ছিল সেটা অদ্ভুত সুন্দর 
আমি মগ্ন হলাম স্কেচ প্যাড পেন্সিল নিয়ে।
“অ্যাঁ মল যা, একটা ত্যানাও জোটেনি—“
আমার মগ্ন থাকা নগ্নতার রক্তিমতা নিয়ে কাগজের পরে
বেদম চটকে গেল। 
দুঃখ নাকি শিল্পের জননী, শিল্পের তত্ত্ববোধ বলে
তাহলে মূর্তিমতী দুঃখ ওই বুড়ীটার কথার বাঁধনে কোন 
শিল্প নেই কেন?
ভাস্কর্য প্রতীম ওই পাগলের উলঙ্গ অঙ্গ শুধু ওর চোখে পড়ে!
একি কোন ভিন্ন ক্ষুধা?
জরতীর শীৎকার পাগলের কানে বুঝি হল্লা হয়ে বেজেছিল।
“ হারামজাদি, তু হেথাকেও –“
বুড়িটার আর্তনাদ, ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত পাগলের ধেয়ে আসা,
মুহূর্তের ব্যাতিরেকে ভেঙ্গে খান্ খান্ শিল্পের সমস্ত আবেদন,
দেখা দিল পাগলের শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গী হয়ে।
বুড়িটা কি ঠিক ছিল?
ওটা যদি শুধু শিল্প হত, নিটোল ভাস্কর্যের মত
ওটা যদি সৌন্দর্যের শুধু কোন মূর্তরূপ হত
যা শুধু সুন্দর হয়।
কিন্তু ও’তো শুধু তাই নয়-যা শুধু সুন্দর হয়,
তাই ওর শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গি হয়ে
সনাতনী শিল্পবোধ ভেঙ্গে চুড়মার করে।
দিনের আলো নিভু নিভু হলে
ভালুমারের জঙ্গলের হাটে পাগল পাগলই থাকে,
বুড়ীটাও ব্যাস্ত থাকে ছেঁড়া ফাটা নিয়ে।

কেউ না' র গভীরে

প্রয়োজন কথাটার ভেতর কি কি থাকে? এত বেশী মৌলিক শিক্ষার অভাব যে ভাবতে বা তার থেকেও একটু গভীরে খুঁজতে গেলেই ইংরেজি "need" শব্দটাই মনে আসে। প্রয়োজন মানে বেশ অনেকটা জান্তব ইনস্টিঙ্কটিভ ব্যপার - খাওয়া পড়া শোয়া ঘুম মেয়েমানুষের প্রয়োজন (আমি  ব্যাটাছেলে তাই), বেশ এমন অনেক কিছু যার জন্য খুব একটা ফিলিংস এর দরকার নেই। এটা কেন বা কি করে হয়ে দাঁড়ায়? মাথার ভেতর একটা কিছু কাজ করে যা প্রায়োরিটি তৈরি করে, সেই প্রায়োরিটি ফিলিংস বা মৌলিক অনুভূতি গুলোকে আস্তে আস্তে ঠেসে ধরে, তার চাপ এতটাই যে ফিলিংস গুলো গুটিয়ে যেতে আরম্ভ করে, তারপর একদিন ফিলিংস বলতে পড়ে থাকে শুধু ব্যথা পেলে কাঁদা বা রাগে উন্মাদ হয়ে যাওয়া, আর খুব কখনও কখনও ঠা ঠা করে হেসে ওঠা হত সেই হেসে ওঠা অনেককেই অবাক করে।

চিন্তা ভাবনা অনুভূতি এ সবের মিশ্রন থেকে তৈরি হওয়ার কথা বোধ নামের রসায়ন টার। প্রয়োজনের চালচিত্র  বোধশক্তিকে  গ্রাস করে নেয়। হয়ত পথ টা নিজে নিজেই তৈরি করে নেওয়া।  সেই  এক  "নাউ" ফ্যাক্টর, চাই এর মুহুর্ত বাকি সব কিছু গ্রসিত, প্রয়োজনের গ্রাসে। অনুভূতির চেতন টা সেটুকুই থাকে যেটুকু থাকলে প্রয়োজনের কাজ মিটবে।

 চিন্তা থাকে ভাবনা থাকে মারা পড়ে নাকি মেরে ফেলি মৌলিক অনুভূতির সিট গুলোকে। কবিতায় লিখে ফেলি "এস আজ বর্ষা খুলে দেখি" অথচ শুধু ভিজে যেতে পারার শারীরি অনুভব ছাড়া ভেতর কি করে ভেজাতে হয় ভুলে গেছি, যে এনটিটি টা কে অবলম্বন করে নিজের ভেতর ভেজাতে চাওয়ার কথা কবিতায় বলি, তাকে খুলে দেখে বড়জোর তার শরীর টাই দেখি।




Wednesday, May 22, 2013

অ্যাক্সিডেন্ট


  সেই থেকে বুচু থম মেরে বসে আছে। কিছুক্ষন আগেই মুঠোফোন বেজেছিল - অনেক খোঁজ বীন করে  শেষ মেশ ওই টিউনটাই রিং টোন  করেছিল ওর জন্য - তোমাকে চাই। পুরনো সোফাটা অসীম মমতায় ওকে ডুবিয়ে নিচ্ছিল নিজের নরম গভীরে। ঘুন পোকাটাও  কি একটা টের পেয়ে থম মেরে ছিল, নিজের কাজ ভুলে। নৈশব্দ এত ভারী হয় কেন! বাতাস নড়ে না বলে?

বুচুর ভাল নাম নিলুফার।  ডাক নাম টা বাবার কল্যানে সেঁটে গেছে, ছোটবেলায় আদর করে  ডাকতেন বুচকি মনি, আমার বুচকাটা, বুচু বুচু এইসব বলে। স্কুলে ঢুকবার সময় খেয়াল থাকে নি লোয়ার ইনফ্যান্ট  এ শুরু হয়ে ক্লাস ওয়ান টু থ্রী - বাবাই আসত ছুটির পর নিয়ে যেতে, নিজের কাজের মধ্যে এটাকে রিলিজিয়াস প্রায়রিটী দিতেন, তো নামটাও বন্ধুদের গোচরে এসে গেলে, তারপর বড় ক্লাস,নাম আর পেছন ছাড়ে নি, আর একদিন বড় বুচুও জেনে গেছিল যে বাবার দেওয়া ডাকনামটা ওকে ব্যাতিব্যস্ত করে না আর ওর বন্ধুদের কাছে।

সেই বন্ধুদের মধ্যে বেনিয়মের ফেরে নিয়ম করেই একদিন সদাশিবন এসে গেল। দুরন্ত, হাসি খুসি, ঠান্ডা মাথা কিছুতে চটে না, অগাধ স্পিরিট আর চট জলদি কথা বলা - নিলুফার একটুতেই বেশ ইম্প্রেসড হয়ে গেল। ক্যান্টিনে নিলুফার তিন চার জনের সঙ্গে বসে ছিল, ছেলেটিকে সেদিনি ক্লাসে দেখেছে, থারড ইয়ার, ক্রপ করা চুল, এদিক ওদিক সপ্রতিভ ভাবে চেয়ে চেয়ে দেখছিল। কাছে এসে বলল আমি সদাশিবন, আজকেই আমার প্রথম কলেজ এখানে, আপনারা আমায় সদা বলে ডাকতে পারেন। বলে সপ্রতিভ ভাবে একটা চেয়ার টেনে বসেছিল।

সেদিন আর আজকে - এরমধ্যে অনেক দিন চলে গেছে। মনে পড়ল একদিন ওরা দুজন এক শনিবার   নামখানা ডায়মন্ড হারবারের দিকে চলে গেছিল, ওরা ওরকম চলে যেত এদিক ওদিক, সাধারনত সেদিনি ফিরে আসত, তো সেদিন এল বিরাট ঝড়। দারুন বৃষ্টি, আর হাওয়ার দমক, মাথার ওপরে রাস্তার ধারের গাছগুলো যেন বেঁকে চুরে বাসের ছাদ ছুঁয়ে টোকা মেরে জানান দিয়ে সোজা হচ্ছিল আবার অন্যদিকে ঝুঁকবে বলে, এরি মধ্যে লম্বা একটা ডাল ভেঙে দমাস করে বাসের ছাদে। বুচু তখন ফোঁপাতে আরম্ভ করেছে - শিব এ অবস্থায় - আমাদের কি হবে। ফিরব কি করে। তুই একদিন এমনি করেই মরবি আর আমাকেও মারবি। ঝড়ের কথা তো শুনেছিলি - তাও বেরুলি... সে অবস্থাতেও সদাশিবন সেই ঠাণ্ডা রসিকতা - ভ্রু পল্লবে ডাক দিলে ঝড় ওই ইশানের কোনে, আরে ভাবই না আমরা হলাম নোয়া'র মানব আর মানবী সবাই, পপুলেসান বেড়েছে তাই সঙ্খ্যা অনেক, আর এটা সেই  ২০১২ র নৌকাটা।
আর তাঁর পরেই ধুম ধুম ধরাম, বাসটা একদিকে কাত, রাস্তায় গর্ত দুম করে সেই জল ঢাকা গর্তে চাকা পড়েছে। আতঙ্কে চিৎকার টা সবাই কোরাসে মন্দ ছাড়ে নি আর ডেসিবেল বোধহয় আকাশের কানেও বেজেছিল, কারন একটু পরেই বৃষ্টি থেমেছিল। ততক্ষনে ওরা বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে এদিক ওদিক মাথার ওপর কিছু না নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ গাছ গুলোর থেকে দূরে, বজ্রাহত হবার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে।
সবাই ব্যাস্ত হয়ে ঠেলেঠুলে বাসটার চাকা তুলল, বাতাসের গোঙানি কমে গেছিল, বাস চল্ল নামখানা, পৌঁছতে সময় লেগেছিল অনেক বেশী, ভাঙা ডাল পেরিয়ে সরিয়ে - ওরা উঠেছিল একটা লজে, ঝড় বাদলের মাতলামি সেরে বাতাস তখন ঠাণ্ডা, কিন্তু চিন্তায় বুচু'র মটকা গরম, আরও গরম সদা'র ঠাণ্ডা হাব ভাব দেখে। ফোন কাজ করছে না ঠিকমত, তারি মধ্যে বাবা কে ফোন করে সব বলেছিল তিন চার বারের চেষ্টায়। বাবা খালি বলেছিল সব শুনে - সদাকে ফোন টা দে। তারপর জিজ্ঞেস করেছিল - তোমার কাছে থাকার টাকা পয়েসা আছে তো, যেন আর কোন কিছু চিন্তা করার  নেই। আসলে সদার অ্যাক্সেপ্ট্যান্স লেভেল টা এরকমিই ছিল সবার কাছে, সদা মানে ভরসা করার মত একটা চরিত্র। আর বাবা - লোকটাই অদ্ভুত। লিভ টুগেদারের  এর নিয়মে বুচু এসেছিল, মা জন্মের কিছু পরেই - অ্যাক্সিডেন্ট, গাড়িটা দুমড়ে গেছিল ট্রাকের ধাক্কায়, ভদ্রলোক সেই থেকে আজীবন একটাই তত্ত্ব বজায় রাখবার চেষ্টা করেছেন, বুচু অ্যাক্সিডেন্ট নয়। মা বাবা দুইই হয়ে থেকেছেন মাইকেল তথাগত বিশ্বাস।

আর একবার ওরা একটা প্ল্যাঞ্চেটের আসরে গিয়েছিল। নজন ছিল সেখানে, নটা মোমবাতি জ্বলছিল একটা গোল টেবিলের ওপর, আর একটাই ঢাকা আলো যাতে ছায়া বেশী পড়েছে আলোর থেকে, গুগগুলের ভারি গন্ধ। ভারী পর্দা ঢাকা ঘরটায় এক অশরীরী ঘেরাটোপ, আচ্ছন্নতার মেজাজ ছিল। সে রাতে ফিরে আসার পথে নিলুফার অসম্ভব শক্ত করে সদার হাত টা ধরেছিল, চাপের বহর দেখে সদাও বুঝি একটু অবাক হয়েছিল। অথচ তুক তাক ঝাড়ফুঁক এ সবে ওর কোন বিশ্বাস কোনদিন ছিল না, এর পরেও যে হয়েছিল তা নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতা টা নাড়িয়ে দিয়েছিল।

এরপর একদিন নিয়মের ফেরেই কর্পোরেট জীবন। টান টোন হাড়িকাঠ, যে বুচু সাধারনত সালোয়ার কামিজ  আর জীনস উইদ টপ পড়ত সে অঙ্গে তুলল শাড়ি, নিবিবন্ধের নীচে টান  হয়ে থাকা  ঘুমন্ত লাইটহাউসের মত নাভির নিসর্গ শোভা, অফিসে আসার আগে মুখ দেখা আয়নায় নানান টিপের বাহার সাটিয়ে রাখা - শেষ প্রসাধন ওই টিপটা। টান করে বাধা চুলের কপালে জাদুচিহ্ন, যেন শাড়ি আর ওই চিহ্ন টিহ্ন দেখে সব এক্কেবারে চিত বা কাত সুবোধ হয়ে পড়বে আর ও কেল্লা ফতে করে বেরিয়ে যাবে।  না সেসব কিছুর দিকে ওর ঝোঁক ছিল না, কারন সেই সদা। সদার বাতিস্তম্ভ ঘিরে ওর সমুদ্দুরের পাড় বাঁচিয়ে রাখা, যেন কেউ ধাক্কা না খায়, কিন্তু ও যে আছে সেটাও যেন ভুলে না যায়। ওর বস কি বুঝেছিল, তাই মাঝে মাঝে রেসকোর্সের ব্যাল্কনিতে দূর দেখার যন্তর চোখে ওকে হাত নাড়তে দেখা যেতে লাগলো, আর হিল্লি দিল্লি কনফারেন্স পাচ তারা সাত তারা হোটেলের কম্ফি সফি আরামে। 

 সদা সদাই, ওকে যেন কিছুতেই কব্জায় আনা যায় না। এই যেমন সেদিন সবে কফি তফি সেরে প্রডাক্ট অ্যাদ্ভান্টেজ বোঝানোর প্রয়াসে মাথার ওপর চশমা টা তুলে দিয়ে ও গুটি দশ দিশি সাহেবকে মন্ত্রমুগ্ধ করে এনেছে প্রায়, মুঠোফোন বাজল - তোমাকে চাই। একটু ক্ষমা চাওয়ার লিপ সিঙ্ক করে ফোন কানে - ওপাড়ে সদার গলা - তোকে এখন কেমন লাগছে রে? কোন শাড়ীটা পরেছিস - হাল্কা নীল সাদা আচল? শোন একটা নতুন গজল লিখেছি, সুর দেওয়ার চেষ্টা করছি  - ইসসে পেহ্লে কি ইয়াদ তু আয়ে / মুঝকো ঠুকরায়ে মেরা দিল তোড়ে - ওর মুখের  বিব্রত অবস্থা দেখে ওর বস এগিয়ে এসেছিল, ফোনটা নিয়ে গম্ভীর স্বরে বলেছিল সদা বজ্জাতি বন্ধ কর, কাজ করছে মেয়েটা - তো এই ছিল সদার গল্প, সবাইয়ের কাছে ছিল ওর অ্যাক্সেপ্টিবিলিটি, আর সেটার স্তর নেহাত ঠুনকো ছিল না, বিশেষ সদাশিবন সিনিওরের কাছে তো নয়ই, কর্পোরেট দুনিয়ার এক নিঃসন্তান হঞ্চো, যাকে বুচু বাপন বলে ডাকতো স্যার ছাড়া,   প্রয়াত গ্রাম সম্পর্কের ভাই কাম  বন্ধুর  পিতৃহীন ছেলেটিকে  হাড়ে হাড়ে চিনেছিলেন। 

সেই হাড়গুলো বোধহয় গুঁড়িয়ে গেছিল। মাইকেল বিশ্বাস আর সদা দুজনেই গাড়িতে ছিল। প্রজেক্টের কাজে মাইকেল বিশ্বাস উত্তর বঙ্গের সফরে গেছিলেন। সদা ড্রাইভার। উল্টো দিক থেকে একটা গাড়ি হঠাৎ  একটা শার্প ডব্লিউ বাঁকের মুখে - বাঁচাতে গিয়ে ল্যান্ডরোভার টা রাস্তার পাশের সিমেন্টের বার গুলো ভেঙে তিস্তার নুড়ি বেছানো জলহীন মাটিতে উল্টে গেছিল। মাইকেল আর সদা - দুজনেই... পুলিশ সদার ফোনের সবচাইতে বেশিবার বাজানো নম্বরটায় রিং করেছিল...তোমাকে চাই। সদা কি চেয়েছিল শেষ মুহূর্তে -  আর মাইকেল বিশ্বাস - বুচু অ্যাক্সিডেন্ট নয় এটা তো সাব্যস্ত করেই ফেলেছিলেন, তাই কি অ্যাক্সিডেন্ট এতকাল নিশ্চুপে গুঁড়ি মেরে অপেক্ষায় ছিল, ভয়ঙ্কর বদলা নেবে বলে।

ফোনটা আবার বাজলো, অন্য রিং টোন, অভ্যেসে বুচু হাত বাড়াল। সিনিওর সদাশিবন - বুচু, মা - ভাঙা গলাটা  এর বেশী কিছু বলতে পারে নি। বাপন... বুচুর অস্ফুট স্বর, শুধু ঘুন পোকাটাই শুনতে পেয়েছিল বোধহয়। বেনিয়মের যাবজ্জীবন কে ভাঙতে তাই বুঝি পোকাটা দারুন উল্লাসে মেতে উঠল বাতাস নাড়িয়ে।

সঙ্কট - সমস্যা - উদ্বাস্তু বোধ


 যে ব্যাপারগুলো আমাদের একি সাথে রিজন দেয় একটা বেসিস দেয় বিশ্বাসের, সেগুলোই কখনো কখনো ভীষণ মৌল প্রশ্ন হয়েও সামনে এসে দাঁড়ায় - খোঁচায়, Nietzsche ' র ভাষায় উই নীড টু সাপ্লিমেন্ট রিয়ালিটি বাই অ্যান আইডিয়াল অফ আওয়ার অউন ক্রিয়েসান - খুব স্বাভাবিক ভাবেই অনেকেই এটা মনে করেন যে মূল্যবোধ অ্যাবসলিউট হয় না, অন্তত ভাল খারাপ বা এথিক্যাল ইসু মানে ঠিক ভুল এগুলো আপাতদৃষ্টিতে মানুষের একটা ইন্সটিঙ্কটিভ ইচ্ছাচেতন সঞ্জাত ভাবনা, তার পারিপার্শ্ব কে তার নিজের ফ্রী উইলে'র সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দেখবার জন্য তৈরি করা মাপদন্ড।
 কথা হচ্ছে কতদুর পর্যন্ত এই সত্যি যাচাইয়ের সীমারেখা টানা হয় বা থাকে সেটা একটা বিশাল ইসু, কারন প্রত্যেকের চেতনসঞ্জাত লজিক আর রিয়েলিটির ধারনা আর ইন্টারপ্রিটেসান যে কনভারজ করবে এটা তো বিশ্বাস্য প্রপজিসান নয়, তাহলে সেখান থেকে বোধহয় এসে পড়বে এই দাইভারজেন্স আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারে। কারন সাধারন অর্থে আমার মনে হয় আমরা রিয়াক্সানের সময় ইন্সটিঙ্কট থেকে রিয়াক্ট করি আর তার পর যখন ইভ্যালুয়েসানের মুখোমুখি হই নিজের আয়ানায় তখন শুরু করি রেস্পন্স, অর্থাৎ ভ্যালু আর রিয়্যালিটির কোহেরেন্স খোঁজা, যাকে বলে র‍্যাসনালাইজেসান। উল্টোদিকে ক্যাওস না হলেও কনভারজেন্স এর অভাব দূরত্ব বাড়ায়। বিভাজন রেখার বিন্যাস ক্রমাগত বদলায়। শুরু হয়ে যায় ভাষা রাজনীতি। আর এটা মনে করার কোন কারন নেই যে এই রাজনীতিতে যার স্থানিক দাপট বেশী শুধু সেই কল্কে নিয়ে চলে যায়, ওয়েব এর কাগজগুলোও কিছু কম যায় না এ ব্যাপারে। কৌলীন্যের যা একটু আধটু ইয়ে মানে ফারাক এই আর কি।
সেই এক কুয়োতলার ব্রাহ্মণের দেওয়া সুর্যপ্রণাম স্তোত্রের ব্যাখ্যায় যখন একটু নিঃস্পৃহ হয়ে ডুব দেই বুঝি তার অক্ষরজ্ঞানে তার অর্থ বোধে রয়েছে তার জীবনচর্যার নির্যাস - সে ব্রাহ্মণ তার কাজ সঙ্গতিপূর্ণ যোগসূত্র বা সিঁড়ি তৈরি করা তাই জবা কুসুম তা জবা ফুল আর কর্ম সূত্রে সেও চায় ধনের উপলব্ধি, তাই তো সে অম্লান অর্থ বলে -  জবা ফুল হাতে নিয়ে মহা তেজা কাশ্যপ মুনি স্মরণ করলে আর সূর্য প্রণাম সারলে ধন লাভ হয় - আর বামুন যেহেতু কারুকে পুজো না করলে কি আর ধন লাভ হয়, নিজের টা নিজের হাতেই থাকে, মানে জবা ফুল টা।
সেই ব্রাহ্মণের র‍্যাসনালাইজেসানে কোন আপাত বিরোধ নেই তাই সে অম্লান, মুস্কিল হয় আমার মত অল্প বিদ্যে ভয়ঙ্করীর সেপাই দের, ওই রানির ভাইরাস এমন যে হার্ড ডিস্ক ফেলে দিয়ে নতুন করা ছাড়া রেমেডি নাই আর সেই রেমেডিও যে এই বয়েসে আর কাজ করবে অ্যামোন  ভরসা দেওয়ার মত ইঞ্জিনিয়ার দেখি না, ইঙ্কলুডিং মি।
 জপাকুসুম সঙ্কাশম কাস্যপেয়ম মহাদ্যুতিম তমঘ্নম সরবপাপঘ্নম প্রনহতোস্মি দিবাকরম -  যতই অর্থ বুঝি অবস্থা সেই বড়ে মিয়াঁ 'র গানের পাত্রের মতন - ক্যা করু সজনী আয়ে না বালম, ধন্দ যে আর কাটে না  দয়াল।

এসে গেল বাউল প্রেম। থেকে থেকেই তালপুকুরের ঘটি না ডোবা জলে ঘাই মারতে গিয়ে  মাছ মরে যাওয়ার গপ্পো, তা সে অন্তক বার বিশ পঞ্চাশ তো হবেই এ জীবনে, মরছি আর অন্য মাছের পেটে গিয়ে তারপর ডিম ফুটে আবার মাছ, নতুন হতে না হতেই সে যেন চিতল পেটি, যা শালা মাছ ধরাদের ভোগে। এ এক সমিস্যে। সরল মন সরল রৈখিক গতিতে ধায়, যেন শিমুলতুলো, বাতাসের দাব যেদিকে সেইদিকে উড়ে যাবে, তো ঘূর্ণিপাকে পড়লে যেমন লাচায় তেম্লি লাচো, তুলো তুমি তুলোই রইলে, শুদু খানিক গতর বদলে গেলো, ছিঁড়ে খুঁড়ে। সেই শিকড়ের কথা এসে গেলো, গাছের শিকড়, মানুষের শিকড়, সে থাকে কোন জমিতে, আজ এত বছর পরেও কি তার হদিশ হয়েছে, নিজভুঁয়ে উদ্বাস্তু আর ঘর শিবির, আর - শেকড়ের গল্প এসে পড়লেই ভয় হয়, হেজিয়ে যাওয়া পরান আর কত সহ্য করবে, মামুউউ?? ওই সে কে জেন বলেছিল মনে পড়ে শেকর উধার, শাখা প্রশাখা ইধার, সেই রকম আর কি, গল্প তাই সেই ইধর উধার ছেড়ে আর ডিঙ্গোল না  ঐতিহ্যের নিশান এখনও উড়ে বেরায় কলকাতার বাতাসে - লাল-হলুদ আর মেরুন সবুজে।


 সে ছাড়া সাব-অল্টারন কিছু হলেই ডেমোক্র্যাসির  নতুন এলিট নতুন অভিধা দিই - জাতে রামেই নেই বুঝিয়ে রাবণের গুষ্টির তুষ্টি করে আমি আঁতেল, আছি কোথায় - সেই আবার এক ভেন্ন বাস্তু, কারন তার পরেই কানে মোবাইল চেপে আমি দেরাইভার ডেকে এ সি চালিয়ে হাজির হব আমার বেঁচে বর্তে থাকার কর্মস্থলে, তবে এ উদ্বাস্তু আবার বাতেন বাবুর জাত, অনেক এদের দাম আর মান, আর রয়েছে - না এই রয়েছে আচে এই ছিল এই নেই খেলায় তো ইতিহাস কাবার। কারণ বুদ্ধিচাচা এলিটিস্মের মাইক তো এধার ওধার সব ধারেই বেজেই চলেছে, এ বলে আমি নীল রক্তের ও বলে আমি বিবর্তনের গল্পে লাল রক্তের এলিট। এদিক ওদিক দু চারটে লাশ টাস থাকলেই হল ইতিহাসে, সে  ভাঙ্গিয়ে খাবার বন্দোবস্ত চলবে চলছে লড়কে লেঙ্গে বুঝে  নেব, আর তাতে যার লাশ তার গুষ্টি গোল্লায় গেলেই বা আমার কি করার আছে, সিস্টেম সিস্টেম, আমার কাজ - সে তোমার জানাই আছে, না কি, এখনও বুঝিয়ে বলতে হবে, সে হলেই তো হল, শালা তুমি অপোগণ্ড।

শ্রেণীসচেতনতা। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনীতি, এবং সামাজিক বিভিন্ন সুক্ষ অতিসুক্ষ সব স্তরের ঘাত প্রতিঘাত থেকে উঠে আসা জীবন চরিত। শিল্পী সাহিত্যিক ধরেন তাদের সাহিত্যে শিল্পে আর বাতেন বাবুরা ধরেন - না ধরলেন আর কই, শুদু ভাঙ্গিয়ে খেলেন, বিভূতিভূষণ, সত্যজিৎ দের করা নিবিড় পাঠ আর শিল্প মূল্য। কি দিয়েছি?  বর্জ্য পদার্থ, মল মূত্র, শ্লেষ্মা। আসলে সবটাই কোন না কোন ভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সূত্রে হয়ে ওঠা এক অন্য প্রতিষ্ঠানের গল্প। আর এই সব কথা উঠলেই তো সাহিত্যে বামপন্থা নামক টপিক টি অনিবার্য এক খাড়া ধন - উপস্থিতি জানান দেবেই, তা সে এও এক দায়বদ্ধতা যে, যতক্ষণ না নামান যাচ্ছে,  কষ্ট মানে ঘাড় ধরে ঘাড় থেকে আর কি, তো সে যে নামেই এমন নয়, ফলে বিষফোঁড়ার মত কিছু টিষ টিষে ভাব থেকেই যায়, কষ্ট। ফলে মুখিয়েই থাকতে হয়, প্রতিবাদী চরিত্র কি না - মানে এই যেমন আমি, যদিও বাম পন্থি টন্থি নই, তো দক্ষিণ মধ্য উত্তর বা নিম্নোত্তর পন্থিরাও আছেন, আমারই মতন। এখান থেকেই তো সেই যাকে বলে ভিন্ন কল্পে আরেক প্রতিষ্ঠান ডিমে তা দেয়, ফুটলে পরে বোঝা যাবে -

"the Politics of colonized is not a matter of doctrine, but of dreams. It does not originate from theories, but from longings, which of course take shape through contentions of politics...and all forms of politics based on dreams are inherently hazardous. Dreams can only stare towards an abyss that sooner or later would give rise to a sovereign authority..."
উদ্বাস্তু সমস্যার এর থেকে বড় সুন্দর ব্যাখ্যা আর হয় না, কারন অ্যাস্পিরেসান এর অ্যাবিস কে পূর্ণ করতে চাওয়ার ইতিহাস এ রাজ্যে গড়ে ওঠা বাম আধিপত্য এবং সে অ্যাবিস কতটা পূর্ণ সে বিচারে এখুনি না ঢুকেই বলা যায়  ফ্যালাসি হল আজও সেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা কে কথা  দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হই হই করে আঁচলে ঘাম মুছে মঞ্চে এসে বৃন্দা কারাতেরা বসে পড়ে। সঙ্গে অবশ্য আরও অনেক ডান, ডানের ডান রাও এসে বসেন - মাইলেজ।

In a maze there is no end no beginning and no closed circle.  মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে রবীন্দ্রনাথ লিখলেন সভ্যতার সঙ্কট - লিখলেন যে পাশ্চাত্য সভ্যতায় তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তা ভয়ঙ্করভাবে ভেঙে গেছে। সূত্র সেই কলনাইজেসানের জের আর বিশ্বযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে এসে পড়া অভিজ্ঞ্যান - মন্বন্তর। দেশ ভাগ উদ্বাস্তু সমস্যা আর তার মেরুকরণ ও তাকে ব্যাবহার, সে আর এক কলনাইজেসানের ইতিহাস, আজও যার জের চলছে। শিল্প সাহিত্যেও বিশেষ কবিতাতেও কি কলনাইজেসানের জের এসে পড়েছে, না পরিচিত উদ্বাস্তু সমস্যার কথা বলছিনা, বলছি একটা অ্যাবিস তৈরি হওয়া আর সেই অ্যাবিস থেকে উঠে আসা সভারেইন্টির কথা। 

Thursday, December 29, 2011

The Impulses and their selection - in the matter of Homosexuality


The Delhi High Court in it's Judgment on the sensitive subject of Homosexuality had, in July 2009, upheld that a part of the provision in the Article which laid down that having sexual relation between two individuals of same sex even if by mutual consent is illegal, is a violation of certain articles in the constitution that lay down the Fundamental Rights
guaranteed under Articles 14, 15, 19 & 21 of the Constitution of India of an Individaual and hence ultra vires. The Judgment declared that ..." We declare that section 377 of IPC in so far as it criminalizes consensual sexual acts of adults in private is violative of Articles 21 [Right to Protection of Life and Personal Liberty], 14 [Right to Equality before Law] and 15 [Prohibition of Discrimination on Grounds of Religion, Race, Caste, Sex or Place of Birth] of the Constitution."
The Religio Political Leaders had thoroughly misunderstood the verdict & had stepped in with their comments and fervent reaction then as if the Court by virtue of the judgement had stepped into their turf. Article 377 had termed such acts of homosexuality a punishable offence to the extent of punishable by either Life Imprisonment or Imprisonment upto Ten Years with Fine. Like many of our enactments the precursor of this provision was a provision introduced by Lord Macaulay nearly a hundred and fifty years ago in the Penal Code that carnal attraction and intercourse by and between individuals against the laws of the nature was a severly punishable offence.
Surprisingly it is not mere moral policing, but considered in the perspective of today's world it is  much more than that. It is in effect peeking into or behind the closed doors of an individual's bedroom in the intimate matter of what a person does or does not do on sexual preferences.
And what is more annoying and laughably frustrating is the argument given by social moral police that the judgement in effect would promote the demonstration of such preferences and thereby vitiate the family values and age long tenets on which the foundation of family lies. Primitive classical apprehension of the section of society that prefers to live in the cocoon of what they term as fundamental behaviorial tenets.
The myth of such argument is self defeating as it admits that the preference exists, and because of that they fear that the judgement would promote the "Demonstration" and at the same time makes effort to deny it's existence like the Ostrich pushing its face in sand by trying to say that don't let the matter have a rightful place in the domain of civility. Rather let it be concealed and suppressed to let it become a sore and then take the primeval action of Macaulay era by ostracizing the protagonists.
A PIL plea by Delhi-based non-government organisation Naz Foundation had been filed alleging that Section 377 provision criminalizing sexual acts between consenting adults in private violated Articles 14, 15, 19 and 21 of the Constitution. The sane and rational judgment declares that "the provisions of Section 377 will continue to govern non-consensual penile non-vaginal sex and penile non-vaginal sex involving minors." 
Do we or do we not want a society that has the right approach of selecting to agree or disagree on issues in life without the sanctimonious acrimony from the quarters that have a stake in such policing and the instruments of Society that have a market in such environment. After all we are a civilized lot. 

Recapitulation of Assumptions

As I said yesterday that it is unlikely that the government would  want a direct decision on lokpal through voting, as they were aware of number games. The fact that the number games were in recent times subject to so much prevarications - starting right from the time of Narasimha Rao govt and Sibu Soren episode - that it was not desirable to have any truck with it. Moreover for the Govt. at the risk of a little loss of face which can be dealt so long as their never given due great Assets  like the FM are around and the fact that public memory is short coupled with the fact that Congress of late are developing the tendency of an Ostrich who assails a storm by putting its face in sand, it was no wonder that either way it was a win win proposition (they believed)for them (read the Royal Family and its closest aides).
Otherwise how could they draft a bill of lokpal whose selection will be in the hands of three politicians and sitting in the Parliament, to be endorsed by another politician statesman handpicked and elected by the same politicians, when the entire street show against corruption started from the plank of political corruption aiding and abetting the down the line corruption in bureaucracy and police, not to mention the issue of corruption in Judiciary which admittedly brings to the fore the consideration on Judicial Accountability Bill.
The Rajya Sabha  session ended without any decision, as was expected, with the Govt. asking for more time for reconsideration on the subject of amendments proposed. So lokpal again goes back to the archives of Proposed Bills that never became Laws.
Its a sad time for Indian Democracy, and once again I have to admit with grudging admiration that Politics reigns supreme.