যে ব্যাপারগুলো আমাদের একি সাথে রিজন দেয় একটা বেসিস দেয় বিশ্বাসের, সেগুলোই কখনো কখনো ভীষণ মৌল প্রশ্ন হয়েও সামনে এসে দাঁড়ায় - খোঁচায়, Nietzsche ' র ভাষায় উই নীড টু সাপ্লিমেন্ট রিয়ালিটি বাই অ্যান আইডিয়াল অফ আওয়ার অউন ক্রিয়েসান - খুব স্বাভাবিক ভাবেই অনেকেই এটা মনে করেন যে মূল্যবোধ অ্যাবসলিউট হয় না, অন্তত ভাল খারাপ বা এথিক্যাল ইসু মানে ঠিক ভুল এগুলো আপাতদৃষ্টিতে মানুষের একটা ইন্সটিঙ্কটিভ ইচ্ছাচেতন সঞ্জাত ভাবনা, তার পারিপার্শ্ব কে তার নিজের ফ্রী উইলে'র সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দেখবার জন্য তৈরি করা মাপদন্ড।
কথা হচ্ছে কতদুর পর্যন্ত এই সত্যি যাচাইয়ের সীমারেখা টানা হয় বা থাকে সেটা একটা বিশাল ইসু, কারন প্রত্যেকের চেতনসঞ্জাত লজিক আর রিয়েলিটির ধারনা আর ইন্টারপ্রিটেসান যে কনভারজ করবে এটা তো বিশ্বাস্য প্রপজিসান নয়, তাহলে সেখান থেকে বোধহয় এসে পড়বে এই দাইভারজেন্স আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারে। কারন সাধারন অর্থে আমার মনে হয় আমরা রিয়াক্সানের সময় ইন্সটিঙ্কট থেকে রিয়াক্ট করি আর তার পর যখন ইভ্যালুয়েসানের মুখোমুখি হই নিজের আয়ানায় তখন শুরু করি রেস্পন্স, অর্থাৎ ভ্যালু আর রিয়্যালিটির কোহেরেন্স খোঁজা, যাকে বলে র্যাসনালাইজেসান। উল্টোদিকে ক্যাওস না হলেও কনভারজেন্স এর অভাব দূরত্ব বাড়ায়। বিভাজন রেখার বিন্যাস ক্রমাগত বদলায়। শুরু হয়ে যায় ভাষা রাজনীতি। আর এটা মনে করার কোন কারন নেই যে এই রাজনীতিতে যার স্থানিক দাপট বেশী শুধু সেই কল্কে নিয়ে চলে যায়, ওয়েব এর কাগজগুলোও কিছু কম যায় না এ ব্যাপারে। কৌলীন্যের যা একটু আধটু ইয়ে মানে ফারাক এই আর কি।
সেই এক কুয়োতলার ব্রাহ্মণের দেওয়া সুর্যপ্রণাম স্তোত্রের ব্যাখ্যায় যখন একটু নিঃস্পৃহ হয়ে ডুব দেই বুঝি তার অক্ষরজ্ঞানে তার অর্থ বোধে রয়েছে তার জীবনচর্যার নির্যাস - সে ব্রাহ্মণ তার কাজ সঙ্গতিপূর্ণ যোগসূত্র বা সিঁড়ি তৈরি করা তাই জবা কুসুম তা জবা ফুল আর কর্ম সূত্রে সেও চায় ধনের উপলব্ধি, তাই তো সে অম্লান অর্থ বলে - জবা ফুল হাতে নিয়ে মহা তেজা কাশ্যপ মুনি স্মরণ করলে আর সূর্য প্রণাম সারলে ধন লাভ হয় - আর বামুন যেহেতু কারুকে পুজো না করলে কি আর ধন লাভ হয়, নিজের টা নিজের হাতেই থাকে, মানে জবা ফুল টা।
সেই ব্রাহ্মণের র্যাসনালাইজেসানে কোন আপাত বিরোধ নেই তাই সে অম্লান, মুস্কিল হয় আমার মত অল্প বিদ্যে ভয়ঙ্করীর সেপাই দের, ওই রানির ভাইরাস এমন যে হার্ড ডিস্ক ফেলে দিয়ে নতুন করা ছাড়া রেমেডি নাই আর সেই রেমেডিও যে এই বয়েসে আর কাজ করবে অ্যামোন ভরসা দেওয়ার মত ইঞ্জিনিয়ার দেখি না, ইঙ্কলুডিং মি।
জপাকুসুম সঙ্কাশম কাস্যপেয়ম মহাদ্যুতিম তমঘ্নম সরবপাপঘ্নম প্রনহতোস্মি দিবাকরম - যতই অর্থ বুঝি অবস্থা সেই বড়ে মিয়াঁ 'র গানের পাত্রের মতন - ক্যা করু সজনী আয়ে না বালম, ধন্দ যে আর কাটে না দয়াল।
এসে গেল বাউল প্রেম। থেকে থেকেই তালপুকুরের ঘটি না ডোবা জলে ঘাই মারতে গিয়ে মাছ মরে যাওয়ার গপ্পো, তা সে অন্তক বার বিশ পঞ্চাশ তো হবেই এ জীবনে, মরছি আর অন্য মাছের পেটে গিয়ে তারপর ডিম ফুটে আবার মাছ, নতুন হতে না হতেই সে যেন চিতল পেটি, যা শালা মাছ ধরাদের ভোগে। এ এক সমিস্যে। সরল মন সরল রৈখিক গতিতে ধায়, যেন শিমুলতুলো, বাতাসের দাব যেদিকে সেইদিকে উড়ে যাবে, তো ঘূর্ণিপাকে পড়লে যেমন লাচায় তেম্লি লাচো, তুলো তুমি তুলোই রইলে, শুদু খানিক গতর বদলে গেলো, ছিঁড়ে খুঁড়ে। সেই শিকড়ের কথা এসে গেলো, গাছের শিকড়, মানুষের শিকড়, সে থাকে কোন জমিতে, আজ এত বছর পরেও কি তার হদিশ হয়েছে, নিজভুঁয়ে উদ্বাস্তু আর ঘর শিবির, আর - শেকড়ের গল্প এসে পড়লেই ভয় হয়, হেজিয়ে যাওয়া পরান আর কত সহ্য করবে, মামুউউ?? ওই সে কে জেন বলেছিল মনে পড়ে শেকর উধার, শাখা প্রশাখা ইধার, সেই রকম আর কি, গল্প তাই সেই ইধর উধার ছেড়ে আর ডিঙ্গোল না ঐতিহ্যের নিশান এখনও উড়ে বেরায় কলকাতার বাতাসে - লাল-হলুদ আর মেরুন সবুজে।
সে ছাড়া সাব-অল্টারন কিছু হলেই ডেমোক্র্যাসির নতুন এলিট নতুন অভিধা দিই - জাতে রামেই নেই বুঝিয়ে রাবণের গুষ্টির তুষ্টি করে আমি আঁতেল, আছি কোথায় - সেই আবার এক ভেন্ন বাস্তু, কারন তার পরেই কানে মোবাইল চেপে আমি দেরাইভার ডেকে এ সি চালিয়ে হাজির হব আমার বেঁচে বর্তে থাকার কর্মস্থলে, তবে এ উদ্বাস্তু আবার বাতেন বাবুর জাত, অনেক এদের দাম আর মান, আর রয়েছে - না এই রয়েছে আচে এই ছিল এই নেই খেলায় তো ইতিহাস কাবার। কারণ বুদ্ধিচাচা এলিটিস্মের মাইক তো এধার ওধার সব ধারেই বেজেই চলেছে, এ বলে আমি নীল রক্তের ও বলে আমি বিবর্তনের গল্পে লাল রক্তের এলিট। এদিক ওদিক দু চারটে লাশ টাস থাকলেই হল ইতিহাসে, সে ভাঙ্গিয়ে খাবার বন্দোবস্ত চলবে চলছে লড়কে লেঙ্গে বুঝে নেব, আর তাতে যার লাশ তার গুষ্টি গোল্লায় গেলেই বা আমার কি করার আছে, সিস্টেম সিস্টেম, আমার কাজ - সে তোমার জানাই আছে, না কি, এখনও বুঝিয়ে বলতে হবে, সে হলেই তো হল, শালা তুমি অপোগণ্ড।
শ্রেণীসচেতনতা। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনীতি, এবং সামাজিক বিভিন্ন সুক্ষ অতিসুক্ষ সব স্তরের ঘাত প্রতিঘাত থেকে উঠে আসা জীবন চরিত। শিল্পী সাহিত্যিক ধরেন তাদের সাহিত্যে শিল্পে আর বাতেন বাবুরা ধরেন - না ধরলেন আর কই, শুদু ভাঙ্গিয়ে খেলেন, বিভূতিভূষণ, সত্যজিৎ দের করা নিবিড় পাঠ আর শিল্প মূল্য। কি দিয়েছি? বর্জ্য পদার্থ, মল মূত্র, শ্লেষ্মা। আসলে সবটাই কোন না কোন ভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সূত্রে হয়ে ওঠা এক অন্য প্রতিষ্ঠানের গল্প। আর এই সব কথা উঠলেই তো সাহিত্যে বামপন্থা নামক টপিক টি অনিবার্য এক খাড়া ধন - উপস্থিতি জানান দেবেই, তা সে এও এক দায়বদ্ধতা যে, যতক্ষণ না নামান যাচ্ছে, কষ্ট মানে ঘাড় ধরে ঘাড় থেকে আর কি, তো সে যে নামেই এমন নয়, ফলে বিষফোঁড়ার মত কিছু টিষ টিষে ভাব থেকেই যায়, কষ্ট। ফলে মুখিয়েই থাকতে হয়, প্রতিবাদী চরিত্র কি না - মানে এই যেমন আমি, যদিও বাম পন্থি টন্থি নই, তো দক্ষিণ মধ্য উত্তর বা নিম্নোত্তর পন্থিরাও আছেন, আমারই মতন। এখান থেকেই তো সেই যাকে বলে ভিন্ন কল্পে আরেক প্রতিষ্ঠান ডিমে তা দেয়, ফুটলে পরে বোঝা যাবে -
"the Politics of colonized is not a matter of doctrine, but of dreams. It does not originate from theories, but from longings, which of course take shape through contentions of politics...and all forms of politics based on dreams are inherently hazardous. Dreams can only stare towards an abyss that sooner or later would give rise to a sovereign authority..."
উদ্বাস্তু সমস্যার এর থেকে বড় সুন্দর ব্যাখ্যা আর হয় না, কারন অ্যাস্পিরেসান এর অ্যাবিস কে পূর্ণ করতে চাওয়ার ইতিহাস এ রাজ্যে গড়ে ওঠা বাম আধিপত্য এবং সে অ্যাবিস কতটা পূর্ণ সে বিচারে এখুনি না ঢুকেই বলা যায় ফ্যালাসি হল আজও সেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা কে কথা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হই হই করে আঁচলে ঘাম মুছে মঞ্চে এসে বৃন্দা কারাতেরা বসে পড়ে। সঙ্গে অবশ্য আরও অনেক ডান, ডানের ডান রাও এসে বসেন - মাইলেজ।
In a maze there is no end no beginning and no closed circle. মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে রবীন্দ্রনাথ লিখলেন সভ্যতার সঙ্কট - লিখলেন যে পাশ্চাত্য সভ্যতায় তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তা ভয়ঙ্করভাবে ভেঙে গেছে। সূত্র সেই কলনাইজেসানের জের আর বিশ্বযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে এসে পড়া অভিজ্ঞ্যান - মন্বন্তর। দেশ ভাগ উদ্বাস্তু সমস্যা আর তার মেরুকরণ ও তাকে ব্যাবহার, সে আর এক কলনাইজেসানের ইতিহাস, আজও যার জের চলছে। শিল্প সাহিত্যেও বিশেষ কবিতাতেও কি কলনাইজেসানের জের এসে পড়েছে, না পরিচিত উদ্বাস্তু সমস্যার কথা বলছিনা, বলছি একটা অ্যাবিস তৈরি হওয়া আর সেই অ্যাবিস থেকে উঠে আসা সভারেইন্টির কথা।