Monday, August 14, 2017

চেনা মুখ

সময়ের ফেউ ঘু ঘু ডাকা গলির নির্জনে হাঁক পাড়ে
বেছে নাও তোমার বিষাদ দেখ কত সব রং
একমুঠো যন্ত্রণার দামে

জাতহীন মাতালের শ্লথ হাতে
অসহ্য নেশার ঘোর কপর্দক শেষ
কাচের গেলাস নয় সাপের ছোবল
জলের আয়নায় ঝুঁকে চেয়ে থাকা ছেঁড়া শাড়ি রুক্ষ চুলে জটা
তারপর ডুব গুব বুদ বুদ গুলো ভেঙে গেলে
জল আবার পিশাচ নির্জন
অবেলার ম্লান পাখি-মুখ
পাকুড়ের ডালে ডানা ঝাপড়ায়
আসন্নসম্ভবা ছিল পেটে ছিল উপোষী সন্তান

যাও যাও ফেরিওয়ালা
বুকের মধ্যে যত নামি
রং হীন জ্বালার পাহাড়

আবার আসিব ফিরে
এ রকম কোন কথা না দিয়েই অনায়াস
স্বপ্নগুলো অর্থহীন
বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের মত যাকেই সামনে পায়
দু পায়ে জড়িয়ে ধরে

ভুলে যাওয়া ভাল
স্বপন আয়নার বুকে আধখানা উন্মাদ হ্যামলেট আর ওথেলো 'র ছায়া
বাকি আধখানা সেই বিকলাঙ্গ চেনা মুখ

Saturday, August 12, 2017

মুহূর্তের ব্যাতিরেকে - একটি কবিতা

ভালুমারের জঙ্গলের হাট
দিনশেষের হাটে - ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
বাঁশের চ্যাঙ্গারি আর শালপাতার দোনা ঘেঁটে 
খাবার খুঁজতে থাকা বুড়িটার চোখ গেল
সূর্যাস্তের দিকে হেঁটে যাওয়া উলঙ্গ পাগলটার দিকে।

আজানুলম্বিত বাহু, মনুজেন্দ্র ভঙ্গি তার হাঁটার ছন্দেতে,
শীর্ণকান্তি কাঁধের ওপরে একমাথা জটাধারী নোংরা রুক্ষ চুল।
দীনতার শীর্ণতার জীর্ণতার যদি কোন রূপ থাকে
এ ছবিতে ছিল সেটা অদ্ভুত সুন্দর 
আমি মগ্ন হলাম স্কেচ প্যাড পেন্সিল নিয়ে।
“অ্যাঁ মল যা, একটা ত্যানাও জোটেনি—“
আমার মগ্ন থাকা নগ্নতার রক্তিমতা নিয়ে কাগজের পরে
বেদম চটকে গেল। 
দুঃখ নাকি শিল্পের জননী, শিল্পের তত্ত্ববোধ বলে
তাহলে মূর্তিমতী দুঃখ ওই বুড়ীটার কথার বাঁধনে কোন 
শিল্প নেই কেন?
ভাস্কর্য প্রতীম ওই পাগলের উলঙ্গ অঙ্গ শুধু ওর চোখে পড়ে!
একি কোন ভিন্ন ক্ষুধা?
জরতীর শীৎকার পাগলের কানে বুঝি হল্লা হয়ে বেজেছিল।
“ হারামজাদি, তু হেথাকেও –“
বুড়িটার আর্তনাদ, ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত পাগলের ধেয়ে আসা,
মুহূর্তের ব্যাতিরেকে ভেঙ্গে খান্ খান্ শিল্পের সমস্ত আবেদন,
দেখা দিল পাগলের শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গী হয়ে।
বুড়িটা কি ঠিক ছিল?
ওটা যদি শুধু শিল্প হত, নিটোল ভাস্কর্যের মত
ওটা যদি সৌন্দর্যের শুধু কোন মূর্তরূপ হত
যা শুধু সুন্দর হয়।
কিন্তু ও’তো শুধু তাই নয়-যা শুধু সুন্দর হয়,
তাই ওর শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গি হয়ে
সনাতনী শিল্পবোধ ভেঙ্গে চুড়মার করে।
দিনের আলো নিভু নিভু হলে
ভালুমারের জঙ্গলের হাটে পাগল পাগলই থাকে,
বুড়ীটাও ব্যাস্ত থাকে ছেঁড়া ফাটা নিয়ে।

কেউ না' র গভীরে

প্রয়োজন কথাটার ভেতর কি কি থাকে? এত বেশী মৌলিক শিক্ষার অভাব যে ভাবতে বা তার থেকেও একটু গভীরে খুঁজতে গেলেই ইংরেজি "need" শব্দটাই মনে আসে। প্রয়োজন মানে বেশ অনেকটা জান্তব ইনস্টিঙ্কটিভ ব্যপার - খাওয়া পড়া শোয়া ঘুম মেয়েমানুষের প্রয়োজন (আমি  ব্যাটাছেলে তাই), বেশ এমন অনেক কিছু যার জন্য খুব একটা ফিলিংস এর দরকার নেই। এটা কেন বা কি করে হয়ে দাঁড়ায়? মাথার ভেতর একটা কিছু কাজ করে যা প্রায়োরিটি তৈরি করে, সেই প্রায়োরিটি ফিলিংস বা মৌলিক অনুভূতি গুলোকে আস্তে আস্তে ঠেসে ধরে, তার চাপ এতটাই যে ফিলিংস গুলো গুটিয়ে যেতে আরম্ভ করে, তারপর একদিন ফিলিংস বলতে পড়ে থাকে শুধু ব্যথা পেলে কাঁদা বা রাগে উন্মাদ হয়ে যাওয়া, আর খুব কখনও কখনও ঠা ঠা করে হেসে ওঠা হত সেই হেসে ওঠা অনেককেই অবাক করে।

চিন্তা ভাবনা অনুভূতি এ সবের মিশ্রন থেকে তৈরি হওয়ার কথা বোধ নামের রসায়ন টার। প্রয়োজনের চালচিত্র  বোধশক্তিকে  গ্রাস করে নেয়। হয়ত পথ টা নিজে নিজেই তৈরি করে নেওয়া।  সেই  এক  "নাউ" ফ্যাক্টর, চাই এর মুহুর্ত বাকি সব কিছু গ্রসিত, প্রয়োজনের গ্রাসে। অনুভূতির চেতন টা সেটুকুই থাকে যেটুকু থাকলে প্রয়োজনের কাজ মিটবে।

 চিন্তা থাকে ভাবনা থাকে মারা পড়ে নাকি মেরে ফেলি মৌলিক অনুভূতির সিট গুলোকে। কবিতায় লিখে ফেলি "এস আজ বর্ষা খুলে দেখি" অথচ শুধু ভিজে যেতে পারার শারীরি অনুভব ছাড়া ভেতর কি করে ভেজাতে হয় ভুলে গেছি, যে এনটিটি টা কে অবলম্বন করে নিজের ভেতর ভেজাতে চাওয়ার কথা কবিতায় বলি, তাকে খুলে দেখে বড়জোর তার শরীর টাই দেখি।